মুসলিম সমাজের প্রয়োজন পূরণ ও সেবা করার উদ্দেশ্যে রুকইয়াহ সেন্টার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। আমাদের লক্ষ্য হলো মানুষকে সহায়তা ও পরামর্শ দেওয়া এবং কুরআন ও সুন্নাহর বিশুদ্ধ ও নির্ভরযোগ্য উৎসের আলোকে নববী চিকিৎসাপদ্ধতি ‘রুকইয়াহ’ প্রদান করা।
ইসলামে রুকইয়াহ হলো অসুস্থতা ও বিভিন্ন ধরনের সমস্যার চিকিৎসার মাধ্যম হিসেবে কুরআন তিলাওয়াত, আল্লাহর কাছে আশ্রয় প্রার্থনা, যিকির ও মাসনূন দোয়া পাঠ করা।
আমাদের লক্ষ্য
১. রুকইয়াহর সঠিক ও শরিয়াহসম্মত পদ্ধতি সম্পর্কে সাধারণ মানুষকে সচেতন ও শিক্ষিত করা।
২. যাঁদের প্রয়োজন, তাঁদের পরামর্শ ও দিকনির্দেশনা দেওয়ার পাশাপাশি নববী চিকিৎসাপদ্ধতি রুকইয়াহ প্রদান করা।
৩. সহীহ ও শরিয়াহসম্মত রুকইয়াহ, আত্মরক্ষা এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসাপদ্ধতি সম্পর্কে মানুষকে শিক্ষা ও সচেতনতা প্রদান করা।
৪. রুকইয়াহ সেবায় পেশাদারিত্ব ও জবাবদিহিতা প্রতিষ্ঠা করা, যাতে বিদআত, অর্থনৈতিক শোষণ এবং অপচিকিৎসা বা অসদাচরণ থেকে সাধারণ মানুষকে সুরক্ষিত রাখা যায়।
আমাদের পদ্ধতি
আমাদের চিকিৎসাপদ্ধতির মূল ভিত্তি হলো কুরআন তিলাওয়াত এবং হাদিস ও সুন্নাহ থেকে প্রমাণিত নববী চিকিৎসাপদ্ধতির ব্যবহার। এর মাধ্যমে আধ্যাত্মিক ও মানসিক সমস্যায় ভুগছেন এমন ব্যক্তিদের অবস্থা যাচাই ও প্রয়োজনীয় চিকিৎসা প্রদান করা হয়। প্রয়োজন অনুযায়ী এটি প্রচলিত চিকিৎসা ও মনস্তাত্ত্বিক চিকিৎসার পাশাপাশি অথবা বিকল্প সহায়ক পদ্ধতি হিসেবে ব্যবহার করা যেতে পারে।
রোগীর অবস্থা যাচাইয়ের ক্ষেত্রে তাঁর সঙ্গে বিস্তারিত আলোচনা, বিভিন্ন লক্ষণ পর্যবেক্ষণ এবং বিশেষভাবে কুরআন তিলাওয়াতের মাধ্যমে বোঝার চেষ্টা করা হয়—তিনি জিনের আছর, সিহর (জাদু), বদনজর/হাসাদ বা এ ধরনের কোনো সমস্যায় আক্রান্ত কি না।
যেসব ক্ষেত্রে রুকইয়াহর প্রয়োজন নেই, সেসব ক্ষেত্রে রোগীকে উপযুক্ত চিকিৎসক বা সংশ্লিষ্ট পেশাজীবীর কাছে যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হবে। আবার প্রয়োজন অনুযায়ী প্রচলিত চিকিৎসার পাশাপাশি রুকইয়াহকে অতিরিক্ত সহায়ক চিকিৎসা হিসেবেও গ্রহণ করা যেতে পারে।
আমরা প্রতিটি রোগীর অবস্থা ও প্রয়োজন বিবেচনা করে পৃথকভাবে অ্যাপয়েন্টমেন্ট নির্ধারণ করি। আগে থেকেই কোনো রোগীর জন্য নির্দিষ্ট সংখ্যক সেশন বাধ্যতামূলক করে দেওয়া হয় না।
আপনার চিকিৎসা পরিকল্পনাটি ধাপে ধাপে স্থির ও ধারাবাহিক অগ্রগতির কথা বিবেচনা করে তৈরি করা হয়, এবং প্রতিটি ধাপ যথাসময়ে কার্যকর করা হয়।
সচরাচর জিজ্ঞাসিত প্রশ্নাবলী
নিচে সাধারণ প্রশ্নগুলোর উত্তর খুঁজুন।
রুকইয়াহ হলো কুরআন তিলাওয়াত এবং বিভিন্ন দোয়া ও প্রার্থনার মাধ্যমে আধ্যাত্মিক, মানসিক বা শারীরিক ক্ষতি থেকে সুরক্ষা ও আরোগ্য লাভের একটি ইসলামি পদ্ধতি।
হ্যাঁ। সূরা আল-ফালাক, আন-নাস এবং আয়াতুল কুরসি সুরক্ষার জন্য নির্ধারিত। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রুকিয়াহ করলেন এবং সাহাবীদের তা করার অনুমতি দিলেন।
রুকইয়াহ নিম্নলিখিত ক্ষেত্রে উপকারী হতে পারে:
• বদনজর থেকে সুরক্ষা
• হিংসা ও হাসাদ থেকে সুরক্ষা
• সিহর (কালো জাদু) থেকে সুরক্ষা
• আধ্যাত্মিক অস্থিরতা ও কষ্ট
• উদ্বেগ বা ভয়
• বিভিন্ন ধরনের বাধা-বিপত্তি দূর করতে
• সার্বিক সুস্থতা ও কল্যাণে
বিশেষ দ্রষ্টব্য: সুস্থতার জন্য ভারসাম্যপূর্ণ পদ্ধতি অবলম্বন করা গুরুত্বপূর্ণ। তাই প্রয়োজন অনুযায়ী রুকইয়াহর পাশাপাশি উপযুক্ত চিকিৎসা ও চিকিৎসকের পরামর্শ গ্রহণ করা উচিত।
হ্যাঁ। নিজের রুকইয়াহ নিজে করা অত্যন্ত উৎসাহিত করা হয়েছে এবং এটিকে রুকইয়াহর সবচেয়ে শক্তিশালী পদ্ধতি হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
সংক্ষিপ্ত সেলফ-রুকইয়াহ (ধাপে ধাপে)
১. পবিত্রতার মাধ্যমে শুরু করুন
সম্ভব হলে অজু করে নিন।
পরিষ্কার ও শান্ত কোনো স্থানে বসুন।
২. নিয়ত করুন
মনে মনে নিয়ত করুন যে আপনি রুকইয়াহ করছেন:
• সুরক্ষা ও হেফাজতের জন্য
• আরোগ্য লাভের জন্য
• কষ্ট ও অস্থিরতা থেকে মুক্তির জন্য
• প্রযোজ্য ক্ষেত্রে সিহর (জাদু), বদনজর বা ওয়াসওয়াসা থেকে মুক্তির জন্য
৩. শুরুর দোয়া ও যিকির পড়ুন
পড়ুন:
• বিসমিল্লাহ
• আস্তাগফিরুল্লাহ — আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা অন্তরকে কোমল করে
• রাসূলুল্লাহ ﷺ-এর ওপর দরুদ/সালাওয়াত
(যেমন: ‘আল্লাহুম্মা সাল্লি আলা মুহাম্মাদ…’)
৪. রুকইয়াহর মূল আয়াত ও সুরাগুলো পড়ুন
প্রতিটি আয়াত ও সুরা নিজের ওপর পড়ুন। তিলাওয়াতের পর দুই হাতে হালকাভাবে ফুঁ দিন এবং হাত দিয়ে শরীর মুছে নিন।
রুকইয়াহর জন্য পাঠ করুন:
• সুরা আল-ফাতিহা — ৭ বার পড়া উত্তম
• আয়াতুল কুরসি
• সুরা আল-বাকারার শেষ ২ আয়াত
• সুরা আল-ইখলাস
• সুরা আল-ফালাক
• সুরা আন-নাস
সুরা ইখলাস, ফালাক ও নাস প্রতিটি ৩ বার করে পড়তে পারেন।
৫. রাসূলুল্লাহ ﷺ শেখানো রুকইয়াহর দোয়াগুলো পড়ুন
পড়তে পারেন:
‘বিসমিল্লাহ’ — ৩ বার।
‘আউযু বি‘ইজ্জাতিল্লাহি ওয়া কুদরাতিহি মিন শাররি মা আজিদু ওয়া উহাযির।’
শরীরের যে স্থানে ব্যথা রয়েছে সেখানে হাত রেখে এই দোয়াটি ৭ বার পড়ুন।
‘আউযু বি কালিমাতিল্লাহিত-তাম্মাতি মিন শাররি মা খালাক।’
‘আল্লাহুম্মা আযহিবিল বা’সা রব্বান-নাস, ইশফি আনতাশ-শাফি, লা শিফা’আ ইল্লা শিফাউক, শিফা’আন লা ইউগাদিরু সাকামা।’
হ্যাঁ। রাসূলুল্লাহ ﷺ তাঁর নাতিদের জন্য রুকইয়াহ করতেন। বাবা-মা সন্তানের জন্য কুরআনের আয়াত ও মাসনূন দোয়া পড়ে তার ওপর হালকাভাবে ফুঁ দিতে পারেন।
রুকইয়াহর অডিও শুনলে প্রশান্তি ও মানসিক স্বস্তি পাওয়া যেতে পারে। তবে নিজে সরাসরি রুকইয়াহ পড়া অথবা কারও মাধ্যমে সরাসরি রুকইয়াহ করানো সাধারণত বেশি কার্যকর।
হ্যাঁ। অমুসলিমদের আরোগ্যের উদ্দেশ্যে কুরআন তিলাওয়াত করে রুকইয়াহ করা জায়েয, যদি তা সম্মানজনকভাবে এবং তাঁদের সম্মতি নিয়ে করা হয়।
মনে রাখবেন, একমাত্র আল্লাহই আরোগ্য দান করেন। তাই আপনার ব্যক্তিগত ইবাদত ও আল্লাহর সঙ্গে সম্পর্ককে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া জরুরি। কেউ কেউ রুকইয়াহর মাধ্যমে দ্রুত উপকার অনুভব করেন, আবার কারও ক্ষেত্রে কয়েক দিন বা কয়েক সপ্তাহ নিয়মিত রুকইয়াহ চালিয়ে যেতে হয়। তাই ধৈর্য ধারণ করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
• সুরা আল-ফাতিহা
• আয়াতুল কুরসি
• সুরা আল-বাকারাহ (বিশেষ করে শেষ দুই আয়াত)
• সুরা আল-ইখলাস, সুরা আল-ফালাক ও সুরা আন-নাস
